নাটোরের সিংড়ায় শিকারের পর ৫০টি বকপাখি জবাই করে হত্যার অপরাধে তিন পাখিশিকারিকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ কাজে সহযোগিতা করায় আরও দুজনকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে চলনবিলে পাখিশিকারিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় একটি চক্র পাখি শিকারের পর সেগুলো জবাই করে বস্তায় ভরে গোপনে পৌর শহরের পারসিংড়া বেদেপল্লীতে বিক্রি করে আসছিল। মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা আয়েশ গ্রামে অভিযান চালান। পাখি কেনাবেচার সময় তাঁরা পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচার করেন।
আদালত পাখি শিকারের অপরাধে পাকুরিয়া গ্রামের জনাব আলী, বিলপাকুরিয়া গ্রামের কাহার ও একই গ্রামের লিটনকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেন। শিকারে সহযোগিতার অপরাধে পারসিংড়া বেদেপল্লীর ভ্যানচালক আবু হানিফকে ৭ হাজার টাকা এবং বিলপাকুরিয়া গ্রামের হোসেন আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর জবাই করা বকগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। অভিযানের সময় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সক্রিয়তা ও প্রশাসনের দ্রুত সাড়ার কারণেই অভিযানটি সফল হয়েছে। একসঙ্গে ৫০টি পাখি হত্যার ঘটনা বোঝায়, চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে ও পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করছিল। শিকারি, সহযোগী ও ক্রেতা, এই পুরো শৃঙ্খলই এখানে জড়িত ছিল।
পরিবেশবিদদের মতে, বক ও অন্যান্য জলচর পাখি জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরা মাছ, পোকামাকড় ও ক্ষুদ্র প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। চলনবিলের মতো বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে নিয়মিত পাখি শিকার চলতে থাকলে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বর্ষার শেষে পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখির আনাগোনা বাড়ে বলে এ সময় নজরদারি আরও জরুরি।
তবে দুই মাসের কারাদণ্ড ও সামান্য জরিমানা এ ধরনের অপরাধ দমনে যথেষ্ট প্রতিবন্ধক হবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত টহল, শিকারিদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং পাখি কেনাবেচার বাজার চিহ্নিত করে সেখানে অভিযান চালানো গেলে এই প্রবণতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি, যাতে পাখির মাংস কেনাবেচার চাহিদাই কমে আসে।

