দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিনের আবেদন নিয়ে আজ বুধবার শুনানি হবে।
বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হয়েছে এবং জামিনে তাদের আপত্তি নেই, আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যের পর নতুন করে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। এর আগে একই মামলায় নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
গত ৫ অক্টোবর নজরুলের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান আদালতে বলেন, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষের জামিনে আপত্তি নেই। নজরুলকে জামিন দিলে মামলার তদন্ত বা বিচার কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার পরদিন আদালত গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।
এরপর নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার জামিন আবেদনের শুনানির দিনও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজকের শুনানিতে আপসনামা ও বাদীপক্ষের আপত্তি না থাকার বিষয়টি নজরুলের জামিনের আবেদনে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

