ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন। বুধবার ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের পর তাঁকে মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
আদালত পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার সকালে সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিচারক সাজিদুল ইসলাম তাঁকে নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন দেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক হয়েছে ৩ নভেম্বর। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ যে প্রতিবেদন দেবে, তা পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর দুপুর দুইটার দিকে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে নিজের ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এ চুরির ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন ৩০ বছর বয়সী সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিওর একপর্যায়ে তাঁকে বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী হওয়ার কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি মারমুখী আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আগে জানিয়েছিলেন, ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য, পুরো ভিডিও না দেখেই ছড়ানো গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানের সামনে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন জড়ো হয়েছিলেন। অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৫১ ধারায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারবিরোধী বক্তব্য বা মতপ্রকাশের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি। এর আগে গত সোমবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।
সাথী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ আদালত চত্বরে বলেন, পুলিশের উচিত ছিল যাঁরা মব সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ পুলিশ উল্টো ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাঁর মতে, ফেসবুক লাইভে সাথী আক্তার যা বলেছেন, তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে দুটি ভিন্ন ভাষ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনজীবীর অভিযোগ, ভুক্তভোগীকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অথচ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৩ নভেম্বর আদালত কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

