দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে প্রেস ব্রিফিং করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. ইউসুফ আলী ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত সেপ্টেম্বরে এ রিট করেন। অনুসন্ধানাধীন অভিযোগ নিয়ে দুদকের প্রেস ব্রিফিং এবং সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রিটে অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি আগের বক্তব্যের মতোই গুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে করা এ রিটের নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬। এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে যা বলা হয়েছে
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপপরিচালক জানান, আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আসিফের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানের শুরুতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা অনুসন্ধান শেষে নির্ধারণের বিষয়।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আগের বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা কথা বলে ব্যাখ্যা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে জানান। তবে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য প্রত্যাহার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন রিটকারী।
এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও দুদক তা আমলে নেয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের আরেক কর্মকর্তা নতুন অভিযোগ তুলে প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের কথা বলা হয়।
অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি আসিফের
রিটে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। অথচ আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাই ওই পদোন্নতির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা এবং তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১-এর পরিপন্থি।

