ভারতের একাধিক রাজ্যে একযোগে বাংলাদেশি নাগরিক শনাক্তে অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষ করে কেন জুন মাসেই এই অভিযান শুরু হলো, তা জানতে চেয়েছে আদালত।
গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্রের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো রাজ্যে হঠাৎ করে বাংলাদেশি খোঁজার অভিযান কেন চালানো হলো? এর পেছনে কী যুক্তি রয়েছে? আর জুন মাসকেই কেন বেছে নেওয়া হলো?”
আদালত আরও জানতে চায়, “ধরা যাক, পুলিশ যদি বিভিন্ন জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায়, তবে তা সাধারণত একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগের অংশ হয়। এ ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু ঘটেছে?” বিচারকরা জানান, এমন অভিযোগও উঠেছে যে, কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই কিছু মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বিচারপতি চক্রবর্তী বলেন, “এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তা না হলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। অনেকেই বলছেন, শুধুই বাংলা বলার অভিযোগে লোকজনকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, সম্প্রতি কাশ্মীরের পাহেলগামে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধির ভিত্তিতে ১৬৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন স্বীকার করেছেন যে তারা বাংলাদেশি, বাকি সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কেন্দ্র। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক কুমার চক্রবর্তী জানান, এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আগেই মামলা হয়েছে। অথচ একই ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে কলকাতা হাইকোর্টে আবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আদালতে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।

