ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) একটি জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) প্রকল্পে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঘুষ, ভুয়া ভাউচার, অতিমূল্য দেখানো এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অনিয়ম।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ২৩ এপ্রিল ডিপিডিসিকে একটি চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য চাওয়া হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তথ্য জমা দেওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেনি ডিপিডিসি।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, তথ্য না পাওয়ায় আবারও তাগিদপত্র পাঠানো হতে পারে। যদিও বর্তমানে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নেই, তবুও অনুসন্ধান কার্যক্রম থেমে নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দুদকের অনুসন্ধানে বিশেষভাবে যেসব নথি চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিদেশি ও দেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা মূল ও সংশোধিত চুক্তিপত্র, টেন্ডার ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন, ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়ার বিবরণ এবং আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান। এছাড়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পেমেন্ট ভাউচারও জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিপিডিসির প্রভাবশালী কিছু কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট ঘুষের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিয়েছে। সেখানে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কিছু প্রকল্পে কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সেই কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে প্রকল্প তহবিল থেকে শত শত কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুদকের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে অর্থ পাচারের বিষয়টিও। যেহেতু এসব প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন জড়িত, তাই ওভার ইনভয়েসিং বা অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নামমাত্র মালামাল আমদানি দেখিয়ে বিদেশি ব্যাংকে টাকা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
যে প্রকল্পটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে সেটি হলো ‘ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’। দুদকে জমা পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, এই এক প্রকল্পেই প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের নামও এসেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ডিপিডিসির ভেতরে দুর্নীতিবাজদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে দুর্নীতির অনুসন্ধানের পাশাপাশি মোরশেদ আলম খানের কোনো অবৈধ সম্পদ রয়েছে কি না, সেটিও আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সিভি/এম

