চট্টগ্রামে প্রায় আড়াই দশক আগে সংঘটিত ব্যাংক অর্থ আত্মসাতের মামলায় পাঁচ সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একজন আসামি খালাস পেয়েছেন।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত-এর বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলাটি সংশ্লিষ্ট ছিল চট্টগ্রামের জনতা ব্যাংক-এর শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখায় সংঘটিত অনিয়মের সঙ্গে। তদন্তে উঠে আসে, ওই শাখার কিছু কর্মকর্তা ও গ্রাহকের যোগসাজশে বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের মার্চের মধ্যে। পরে বিশেষ পরিদর্শন টিমের তদন্তে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ২০০০ সালে মামলা দায়ের হয় এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং সাঈদ হোসেন। একই মামলায় নুরুল হুদা খালাস পেয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বিভিন্ন ধারায় সর্বোচ্চ আট বছরের কারাদণ্ড দেন এবং প্রত্যেক আসামিকে জরিমানাও করেন। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যাংকের ভেতরে সমন্বিতভাবে অর্থ সরিয়ে বিভিন্ন হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলার রায়কে ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

