নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ভীমপুর এলাকায় বেদে পল্লীর একটি সরকারি খাসজমিতে গড়ে ওঠা ঘরকে ঘিরে ভয়াবহ মাদকচক্রের অভিযোগ উঠেছে। বাইরে থেকে সাধারণ ঝুপড়ি মনে হলেও ভেতরে রয়েছে আধুনিক বিলাসবহুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেখানে এয়ারকন্ডিশন, পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে মাদক বাণিজ্য।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা গোপনে মাদক বিক্রি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই আস্তানার মূল পরিচালনায় আছেন ববিতা আক্তার সুমাইয়া নামে এক নারী, যিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য পুরো ঘরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে অভিযান বা উপস্থিতির খবর আগেই পেয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
অভিযোগ রয়েছে, ববিতা আক্তার সুমাইয়া এর আগে একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে এলাকায় তরুণ ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে আস্তানাটি উচ্ছেদ এবং এর পেছনের মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একাংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অবস্থান করছে এবং প্রতিবারই আইনি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে এর আগেও আটক করা হয়েছিল। তবে তার বিলাসবহুল জীবনযাপন বা সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে না ফেললে এই ধরনের অপরাধ আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে।

