রাজধানীর আদাবরে পুলিশের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই গ্রুপের সদস্যরাই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব-২ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবু সাইদ নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি এই চক্রের দ্বিতীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্য জানাতে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।
পুলিশ ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালালে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং পুলিশের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে গুলি ছোড়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হামলায় জড়িতরা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য। এই চক্রই স্থানীয়ভাবে ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’ নামে পরিচিত।
তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চক্রটির প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও বহু মামলা রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, একসময় গ্রুপটির মূল নেতৃত্বে থাকা আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পরও চক্রটির কার্যক্রম থেমে যায়নি। বরং এটি কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে এলাকায় সক্রিয় থাকে এবং পরবর্তীতে নতুন নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হতে থাকে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গ্রুপটি প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে সহিংস কৌশল ব্যবহার করত বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় বর্তমানে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের সদস্যরা নিয়মিতভাবে ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর এলাকায় বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

