অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে আরও একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি নতুন করে প্রায় চৌদ্দ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএফআইইউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত এক মাসের মধ্যেই প্রায় দশ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি সংস্থার পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে আরও চৌদ্দ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় জুয়া ও হুন্ডি চক্রগুলো দ্রুত নতুন নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে সক্রিয় হয়ে উঠছে। তবে ইতিমধ্যে এসব চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে যেসব ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হচ্ছে, তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভবিষ্যতে যেন নতুন কোনো এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা না যায়, তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতিমধ্যে প্রায় পঞ্চান্ন হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা বন্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এই নতুন উদ্যোগ যুক্ত হলে বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা মোট প্রায় সত্তর হাজারের কাছাকাছি পৌঁছাবে।
অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকার চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত একটি নতুন আইন কার্যকর করে, যেখানে অনলাইন জুয়াকে সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উপযোগী কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করা, নিজে জুয়ায় অংশ নেওয়া, অন্যকে এ ধরনের কাজে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার বিজ্ঞাপনে যুক্ত হওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া–সংশ্লিষ্ট প্রচারণা চালানো—এসবই আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই আইনের আওতায় দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমএফএস অ্যাকাউন্ট বন্ধের এই ধারাবাহিক অভিযান এবং নতুন আইনের কঠোর প্রয়োগ একসঙ্গে চললে দেশে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ হুন্ডি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে এসব চক্র নতুন কৌশলে ফিরে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

