জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া দলটির এক যুগ্ম সদস্যসচিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি বিতর্কিত পোস্টের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই পোস্টের ঘটনাতেই তাকে দলীয় পদ থেকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, ঘটনার প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতে বুধবার সকালে ঢাকার পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৯ জুলাই বিকেলে, যখন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেওয়া একটি আপত্তিকর পোস্ট নজরে আসে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে পরে পোস্টদাতা নিজেই সেটি মুছে ফেলেন। এরপরও অভিযোগকারী নেতা তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগকারী নেতার ভাষ্যমতে, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বকে বিষয়টি অবহিত করার পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মামলা এজাহারভুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়, যার মাধ্যমে বুধবার ভোরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তাকে বগুড়ায় নিয়ে গিয়ে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপির একজন শীর্ষস্থানীয় সংগঠক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, সম্প্রতি দেশের দুই স্থানে সংঘটিত কিছু হামলার প্রসঙ্গ টেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দিয়েছিলেন। পরে দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে তিনি নিজেই পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার আশ্বাস দেন। ওই সংগঠক প্রশ্ন তোলেন, দলীয়ভাবে ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পুনরায় পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন যে ধরনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার একটি পক্ষ হয়েছিল, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তারাই এখন একই ধরনের আচরণ প্রদর্শন করছে বলে তার পর্যবেক্ষণ। পাশাপাশি তিনি সিলেটে এক ছাত্র সংগঠনের কর্মীর ওপর হামলায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক অব্যাহতি দেয় এনসিপি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তখন জানানো হয়েছিল। নোটিশে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এটিই তার প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগে গত বছর সরকারি নিয়োগে অনিয়ম ও পাঠ্যবই ছাপার কাগজ সরবরাহে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগে তাকে একবার সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য তিনি পুনরায় দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

