সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে বেসরকারি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন নরসিংদীর একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক। পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাকে শনাক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের চিকিৎসক নিবন্ধন বাতিল এবং সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান একাধিকবার ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেও তিনি তা এড়িয়ে গেছেন। সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে তিনি বরাবরই ব্যস্ত থাকতেন একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার কাজে।
মন্ত্রী আরও জানান, ওই চিকিৎসক সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র তৈরি করে সেটি ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ শুরু করেছিলেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই পদত্যাগপত্রের সত্যতা যাচাই না করেই তাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। এ কারণে চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এই চিকিৎসক স্পষ্টতই অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন, আর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তাতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। এ কারণে তার চিকিৎসক নিবন্ধন বাতিল ও সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে উপস্থিত থাকা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

