প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিসের মালামাল, গ্যাস সিলিন্ডার ও ট্রাঙ্ক অনুমতি ছাড়াই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আশরাফুল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার পরপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাস্টের বর্তমান সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রেজওয়ানা আক্তার জাহান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩৮১ ধারায়—অর্থাৎ কর্মচারী কর্তৃক চুরির অভিযোগে—মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আশরাফুল মামুন এর আগে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন। গত ৬ আগস্ট তাঁকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে বদলি করা হয়। কিন্তু নতুন দায়িত্বে যোগদান না করে তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি না নিয়েই অফিসের বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন।
এজাহারে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ৮ আগস্ট শনিবার। সেদিন সকালে ছুটির দিনে ট্রাস্টের একটি সরকারি গাড়িতে করে নিজের বাসায় যান আশরাফুল মামুন, সঙ্গে ছিলেন একজন আউটসোর্সিং চালক। এরপর দুপুরে ধানমন্ডির অফিসে ফিরে বিকেলের দিকে বড় চারটি বস্তা ও কয়েকটি ব্যাগ ভর্তি মালামাল গাড়িতে তুলে নিয়ে যান তিনি।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে। অফিসের করিডর থেকে একটি ট্রাঙ্ক ট্রাস্টের এক গাড়িচালকের মাধ্যমে ময়মনসিংহে নিজের বাসায় পাঠিয়ে দেন তিনি—এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কর্মরত একজন আনসার সদস্য।
তৃতীয় ঘটনাটি আরও আগে, গত ২৫ জুলাই শনিবারের। সেদিন বিকেলে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ট্রাস্টের চারটি গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে আসে। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য গাড়িচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মালামালগুলো গাবতলীতে নেওয়া হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে অভিযুক্তের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ২৫ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে একাধিকবার মালামাল সরানোর বিষয়টি নজরে আসার পর প্রথমে গত ১৩ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে সেই রাতেই এটিকে আনুষ্ঠানিক মামলা হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহকে।

