আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) দুই সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয় এবং ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুল মালেককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুস সাদেক। এই কমিটি গঠনের পেছনে রয়েছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। গত ২৬ জুলাই রিহ্যাবের সহসভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্য বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন।
সেই আবেদনে রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল ও সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মোট ১২টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা ব্যয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনে অনিয়ম, বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) স্থান ও তারিখ নির্ধারণে অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতিতে অনিয়ম, গোপনীয় তথ্য ফাঁস, রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬ আয়োজনে অনিয়ম, ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বিলুপ্ত, সরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বে অনিয়ম, এবং সভাপতির পক্ষপাতমূলক আচরণ।
অভিযোগের বিষয়ে গত ৩০ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানি করেন যুগ্ম সচিব মো. মোস্তফা জামাল হায়দার। শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে রিহ্যাব সভাপতিকে ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর ১ আগস্ট র্যাডিসন হোটেলে নির্ধারিত এজিএম অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি ১২ থেকে ১৫ আগস্টের গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলার আয়োজনও সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ আগস্ট গুলশান ক্লাবে এজিএম করার উদ্যোগ নেয় বর্তমান পর্ষদ। বিষয়টি জানার পর পরিচালনা পর্ষদের একাংশের হস্তক্ষেপে তা পণ্ড হয়ে যায়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রিহ্যাবের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। একদিকে সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে এজিএম আয়োজনের চেষ্টা এই দুই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে সংগঠনটির নেতৃত্বে গভীর বিভাজন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এখন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। তদন্ত প্রতিবেদন কী বলে, সেটার দিকেই এখন সবার নজর।

