হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত পাঁচ দিনে একাধিক পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। স্বর্ণের পেস্ট, ভ্যাপ ও ভ্যাপ লিকুইড, শত শত মোবাইল ফোন, বিদেশি সিগারেট, মিল্ক পাউডার, নিষিদ্ধ প্রসাধনী এবং বিদেশি ওষুধ ও মদসহ জব্দ করা এসব পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি তিয়াত্তর লাখ টাকা।
গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সতেরো থেকে একুশে আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।
সবশেষ একুশে আগস্ট দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বেরোনোর সময় আটক করেন কর্মকর্তারা। তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও পিক্সেল ফোন, একশ একষট্টি কার্টন সিগারেট, একটি হোয়াইটেনিং সিরাম এবং দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে দুবাই ও দোহা থেকে আসা আরও দুটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে বিদেশি মদ, ভ্যাপ লিকুইড ও সিগারেট আটক করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় চৌদ্দ লাখ বিশ হাজার টাকা।
এর আগে বিশে আগস্ট প্রথম শিফটের অভিযানে দুবাই ও বাহরাইন থেকে আসা তিনটি ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে একুশ কার্টন সিগারেট, ঊনসত্তর কেজি বা এক হাজার সাতশ চল্লিশটি নিষিদ্ধ ক্রিম, প্রায় সাড়ে ঊনত্রিশ কেজি বিদেশি মিল্ক পাউডার এবং একশ ষোলো পিস ক্রিমজাতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়, যার শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় আটাশ লাখ একান্ন হাজার টাকা।
একই দিনের দ্বিতীয় শিফটের অভিযানে বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে তিরাশি কার্টন সিগারেট, একশ আটানব্বইটি ভ্যাপ, দশটি রেডমি মোবাইল ফোন, ছত্রিশ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং চার লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় একাশি লাখ টাকা।
আঠারোই আগস্ট কলম্বো থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও রেডমি ফোনসহ দুই হাজার চারশ বিরাশিটি বিদেশি ওষুধ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় চুয়ান্ন লাখ দুই হাজার টাকা।
তবে এই পাঁচ দিনের অভিযানে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে সতেরোই আগস্ট। দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে কর্মকর্তারা প্রায় আটশ একাশি গ্রাম ওজনের স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করেন, যা পরীক্ষায় প্রকৃত স্বর্ণ বলে প্রমাণিত হয়—এতে প্রায় চারশ একষট্টি গ্রাম খাঁটি স্বর্ণ পাওয়া যায়। একই অভিযানে আট কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং চৌদ্দ কার্টন সিগারেটও জব্দ করা হয়। এই চালানের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য প্রায় পঁচানব্বই লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সতেরো থেকে একুশে আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত এসব পৃথক অভিযানে জব্দ হওয়া মোট পণ্যের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি তিয়াত্তর লাখ টাকা।

