দিনাজপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি সরকারি সার গোডাউন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সাড়ে তিনশ টনের কাছাকাছি সার বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গোডাউনের দায়িত্বে থাকা এক স্টোরকিপারকে আটক করেছে পুলিশ।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর এলাকায় অবস্থিত বিএডিসির সরকারি সার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ওই স্টোরকিপারকে আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালিত হয় উপজেলা প্রশাসন ও কোতোয়ালী থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এই গোডাউন থেকে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে— এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় গোডাউনের স্টোরকিপারকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, গত জুলাই ও আগস্ট— এই দুই মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই তিনি মোট তিনশ সাতাশ দশমিক পঁয়তাল্লিশ মেট্রিক টন সার বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে দুইশ সাতাশ মেট্রিক টন ছিল ডিএপি সার এবং একশ দশমিক পঁয়তাল্লিশ মেট্রিক টন ছিল এমওপি সার।
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্টোরকিপারের পাশাপাশি বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ দুজন ডিলারকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের একজনের বাড়ি বীরগঞ্জ উপজেলায়, অন্যজনের বাড়ি কাহারোল উপজেলায়। বিএডিসির সার শাখার একজন সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেছেন।
বিএডিসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নশিপুর এলাকায় তাদের দুটি বড় সার গোডাউন রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় আঠারো হাজার মেট্রিক টন। এসব গোডাউনে সাধারণত এমওপি, ডিএপি ও টিএসপি— এই তিন ধরনের সার মজুদ রাখা হয়ে থাকে।
দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় একজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য যে কারও বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কৃষি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা সার এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা কৃষকদের ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকারি গোডাউনগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।

