বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা প্রায় ৮১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে খোলাবাজারে বিক্রির চেষ্টাকালে জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় এই কাগজ বিক্রির প্রস্তুতির সময় অভিযান চালিয়ে ট্রাকবোঝাই এই চালান আটক করা হয়।
শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ওই ডুপ্লেক্স বোর্ডের চালানের গন্তব্য ছিল খুলনা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের পর কাঁচপুর-সাইনবোর্ড-পোস্তগোলা হয়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনায় পণ্যগুলোর পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দশটি ট্রাকের একটি বহর নির্ধারিত সেই রুট থেকে সরে গিয়ে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বন্ড সুবিধায় আনা এই কাগজ সেখানকার আড়তে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বহরের একটি ট্রাক ততক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এর মধ্যেও ঠিক বিক্রির মুহূর্তে আরেকটি ট্রাক আটক করতে সক্ষম হন কর্মকর্তারা।
আটক ট্রাকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আনা ডুপ্লেক্স বোর্ড পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। পুরো বহর মিলিয়ে মোট প্রায় ৮১ টন কাগজ ছিল বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কাজে ব্যবহারের জন্যই অনুমোদিত থাকে। এ ধরনের পণ্য অনুমোদিত গন্তব্যের বাইরে খোলাবাজারে বিক্রি বা স্থানান্তর করা হলে তা রাষ্ট্রীয় শুল্ক-কর ফাঁকির একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তদন্তে আটক পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ যাচাইয়ের পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং বন্ড সুবিধার আওতায় পণ্য আনার প্রাসঙ্গিক নথিপত্র। পাশাপাশি সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণও নির্ণয় করার চেষ্টা চলছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ড সুবিধার এমন অপব্যবহার নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে বন্ডেড পণ্যের চলাচল ও গন্তব্য নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। শুল্কমুক্ত সুবিধার এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধ করতে হলে পণ্য পরিবহন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

