অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে আনা চারজন হলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ে ‘বদলি বাণিজ্য’, ‘পদোন্নতি বাণিজ্য’ ও ‘পছন্দের জায়গায় পদায়নের বিনিময়ে’ বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।
দুদক সূত্র বলছে, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বদলির আদেশ জারির বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা। আর প্রায় ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি বাবদ আদায় করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। এরপর তাঁদের পছন্দের জায়গায় পদায়ন নিশ্চিত করতে আরও ২ কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে। অর্থাৎ, এই চারজনের বিরুদ্ধে মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা—মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনের পদায়ন ও পদোন্নতির বিষয়ে এ অর্থ লেনদেন হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তাও জড়িত বলে জানা গেছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে ৪ সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে দুদক। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে আসিফ মাহমুদের সাবেক একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছিল দুদক। প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারি তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
দুদক বলছে, প্রাথমিকভাবে এই অর্থ লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান দল কাজ করছে। এই অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে, সাবেক এই উপদেষ্টা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয় কিনা।

