গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বেও ছিলেন। এই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সময়ে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের একটি গ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল থেকেই পৌর এলাকা এবং ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে করতোয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়।
পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আরেকটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করতে ওই গ্রাম এলাকায় যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে জড়ো করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনওসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও গাছের ডাল ছোড়া হয়।
এই হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ইউএনও ও অন্যান্য সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। এরপর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনওসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউএনও গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়। তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়ার পর তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালানো হয় এবং এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

