আদালতের কোনো রায় বা আদেশের প্রতিবাদে হরতাল কিংবা ধর্মঘট ডাকা যাবে না। এ ধরনের কর্মসূচিকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল কিংবা ধর্মঘট ডাকলে সংশ্লিষ্ট বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব।
যে ঘটনা থেকে রিট
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন।
ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাঁদের বহনকারী গাড়ির সংঘর্ষে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় বাসচালককে সাজা দেন।
রায়ের পর বাস মালিকদের পক্ষ থেকে পরিবহন ধর্মঘট ও হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট করে।
রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকার বিষয়টি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে রোববার সেই রুলের নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট রায় দিলেন।
আপিলের পথ আছে, হরতালের নয়
রায়ের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কারও আপত্তি থাকলে আইনে নির্ধারিত পথে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
তবে রায়ের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘট ডেকে আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যত অকার্যকর করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সব কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করতে সহায়তা করতে হয়।
হাইকোর্টের রায়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সংগঠন আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল কিংবা ধর্মঘট ডাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাইকোর্টের এই রায়ের মূল বার্তা হলো, আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার প্রতিকার আইনি প্রক্রিয়ায় চাইতে হবে। রায়ের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করে বিচারিক সিদ্ধান্ত বদলের চেষ্টা করা যাবে না।

