আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির যুব ও ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ের দিন ঠিক করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া আসামি হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
গত ১৭ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
এরও আগে গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ
প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমাতে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার আহ্বানও জানানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয়। কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো কর্মকাণ্ডেও আসামিদের ভূমিকা ছিল।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকেই নজর রয়েছে। আগামীকাল রায় ঘোষণার পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের মূল্যায়ন এবং আসামিদের দায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

