পুঁজিবাজারে অনুমোদিত একটি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে গ্রাহকের বিপুল অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদিত ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ দশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের একজন উপপরিচালক বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল শাখাসহ বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে জমা রাখা প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে শেয়ার কেনার নামে সংগ্রহ করা অর্থ প্রকৃতপক্ষে শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়নি। বরং গ্রাহকদের পোর্টফোলিওতে থাকা অর্থ কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই প্রক্রিয়ায় জাল স্বাক্ষর ও জাল দলিল তৈরি এবং হিসাব নথিতে মিথ্যা তথ্য প্রদর্শনের অভিযোগও যুক্ত হয়েছে মামলায়। গত জুন মাসের শেষ দিকের শেয়ারমূল্য বিবেচনায় নিয়েই আত্মসাতের এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করেই গ্রাহকদের অর্থ অননুমোদিতভাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই অনিয়মের বিষয়টি এর আগেও একবার সামনে আসে, যখন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ গত জুলাই মাসে পরিচালিত এক তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল শাখায় একই ধরনের অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পায়।
এই ঘটনা পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গ্রাহকের অর্থ সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও একবার প্রশ্নের মুখে ফেলল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও গভীর করতে পারে, যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কঠোর ভূমিকা না নেয়।

