কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা পূর্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। কাঁচা চালান পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার পণ্য বিক্রির তথ্য মিলেছে। এর বিপরীতে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ফাঁকি ধরা পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম জে আই ইমপেক্স লিমিটেড।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক সংবাদ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জব্দ করা নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে এই ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়েছে।
ভ্যাট বিভাগের সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা পূর্ব ভ্যাট বিভাগের একজন যুগ্ম কমিশনার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁদের নিয়ে গঠিত প্রতিরোধমূলক দল এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে মূসক ১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক নথি ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে:
- ১২টি ক্লিপ ফাইল
- বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিলের ৯৮টি নথি
- ২২টি প্লাস্টিক ফোল্ডার
- একটি সিপিইউ
- চারটি টালি খাতা ও চারটি রেজিস্টার
- ট্রাক ভাড়া–সংক্রান্ত একটি বান্ডেল নথি
- দুটি মেমো ফাইল
- ট্রাকচালকদের খরচের ১০ বান্ডেল বিবরণী
- প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত কম্পিউটারে ছাপানো বিক্রয় দলিল
পরে এসব নথি খতিয়ে দেখা হয়। তাতে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথি পাওয়া যায়। এসব নথিতে থাকা কাঁচা চালান ও বিক্রয়ের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি বিক্রির হিসাব শনাক্ত করা হয়। সেই বিক্রির বিপরীতে কর ফাঁকির অঙ্ক দাঁড়ায় ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি।
কাঁচা চালান বলতে সাধারণত এমন চালানকে বোঝায়, যা সরকারি ভ্যাট ব্যবস্থায় নথিভুক্ত না করে পণ্য বিক্রির সময় ব্যবহার করা হয়। এতে বিক্রির প্রকৃত হিসাব সরকারি খাতায় ওঠে না। ফলে ভ্যাটও কোষাগারে জমা পড়ে না। এ কারণে কর ফাঁকি ধরতে জব্দ করা নথি ও হিসাবের খাতা বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। উল্লেখ্য, এই হিসাব প্রাথমিক পর্যায়ের। মামলা দায়েরের কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন। আইনি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত অঙ্ক ও দায় নির্ধারিত হবে।

