হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান রোধ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে লাগাতার অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ঢাকা কাস্টমস হাউস। গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরিচালিত মোট ১১টি পৃথক অভিযানে স্বর্ণ, অবৈধ লিকার, সিগারেট ও নিষিদ্ধ প্রসাধনসামগ্রী সহ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার করে আনা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য থেকে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব শুল্ক হিসেবে আদায় করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগের নিশ্চিত করা তথ্যমতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে সপ্তাহজুড়ে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের গোল্ডবার ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫৮৯ লিটার বিদেশি লিকার, ২ হাজার ৯২৩ কার্টুন সিগারেট, ৩৫০ পিস ই-সিগারেট, অতিরিক্ত ৯২টি স্মাগল করা মোবাইল ফোন, ৩১৫ কেজি আমদানিকৃত ওষুধ এবং ২৮৬ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্ষতিকর ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কাস্টমস আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ও নির্ধারিত ব্যাগেজ নিয়মনীতি ভঙ্গ করে এসব পণ্য বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের মাধ্যমে দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
বিমানবন্দর কেন্দ্রিক কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, অনেক অসাধু যাত্রী বা প্রবাসী ব্যাগেজ বিধিমালার আওতায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক মালামাল শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পাস করানোর চেষ্টা করেন। এনবিআর এনফোর্সমেন্ট দলের কড়া নজরদারির কারণে এসব পণ্য শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যাগেজের পণ্যের ওপর ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর স্পট অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
কাস্টমস হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গ্রিন চ্যানেলে যাত্রীদের কোনো ধরনের হয়রানি না করে চোরাচালান প্রতিরোধে প্রযুক্তির সহায়তায় এই ধরণের তদারকি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা প্রতিটি চালানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

