নোয়াখালীর চাটখিলে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে আসা ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করে ১ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। শুধু বিল ঠিক করেই থামেননি কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার রাতে তাঁরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিলের কপি তুলে দেন এবং ভুলের জন্য ক্ষমা চান। গ্রাহকও তখনই বিল পরিশোধ করেছেন।
বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তারা বিলের কপি তুলে দেন গ্রাহক শহীদুল ইসলাম ওরফে রনির হাতে। সঙ্গে ছিলেন নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রাহাত এবং মিটার রিডার জামাল উদ্দিন। তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সংশোধিত বিল হাতে পেয়ে শহীদুল ইসলাম সঙ্গে সঙ্গে ১ হাজার ১৮২ টাকা পরিশোধ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, টাইপিংয়ের ভুলের কারণে ওই গ্রাহকের নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল চলে যায়। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিল সংশোধন করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মিটারটি প্রয়াত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত। বর্তমানে এটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম।
শহীদুল ইসলাম বলেন, বিল তৈরির সময় ভুল হয়েছিল। রাতে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা সরাসরি বাড়িতে এসে সঠিক বিলের কপি দিয়ে গেছেন, তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পরিশোধ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যিনি বিলটি তৈরি করেছেন, তিনি ভুলবশতই এমনটি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশোধন করায় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ডিজিএম জুনায়েদুর রহমান বলেন, তিনি নিজেই রাতে গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিল দিয়ে এসেছেন। মূলত টাইপিংয়ের ভুলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান। সাধারণত ভুল বিল পেলে গ্রাহকদের অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়, কখনো দিনের পর দিন। এ ঘটনায় উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কর্মকর্তারা নিজে গিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন, যা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে।
তবে ঘটনাটি বিল তৈরির প্রক্রিয়ার দুর্বলতাও দেখিয়ে দেয়। একটি টাইপিংয়ের ভুলে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকার বিল তৈরি হয়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে গেছে, অথচ মাঝপথে কোনো যাচাই-বাছাইয়ে তা ধরা পড়েনি। এমন অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকলে গ্রাহককে এই দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না। ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, বিল তৈরির সময় তথ্য যাচাই ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি। এবারের ঘটনায় দ্রুত সমাধান হলেও ভবিষ্যতে এমন ভুল যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির যাচাই ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

