চট্টগ্রামের পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একটি সম্পত্তির দলিল নিবন্ধনের সময় চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৫ অক্টোবর) অভিযানে দলিল ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট টিম। প্রাথমিক পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও রাজস্বের কত টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় ২ এর একটি দল এ অভিযান চালায়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি করার অভিযোগ ছিল। অভিযানকালে কর্মকর্তারা কার্যালয় পরিদর্শন করেন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেন।
পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১৮ সালের একটি দলিলসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে দুদকের দল কার্যালয়ে এসেছিল। দলিলটি নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে একটি মামলা রয়েছে। ওই দলিলের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদকের চট্টগ্রাম ২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও বক্তব্য বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলিল নিবন্ধনের সময় কোনো ভবনের তথ্য গোপন করা হলে সম্পত্তির ঘোষিত মূল্য ও প্রকৃত মূল্যের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে। এতে নিবন্ধনসংক্রান্ত সরকারি ফি ও কর কম আদায়ের ঝুঁকি থাকে। তবে পটিয়ার এই ঘটনায় ভবনের মূল্য কত দেখানো হয়েছিল, প্রকৃত মূল্য কত এবং এর ফলে সরকারের কত টাকা রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
দুদকের পরবর্তী তদন্তে দলিলের বিবরণ, সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি যাচাই করে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। আপাতত অভিযোগটি তদন্তাধীন। তাই নথিপত্র যাচাই ও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কাউকে অনিয়মের জন্য দায়ী বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

