রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে একটি বাজারে পরিণত হয়েছে। রাস্তার ফুটপাত অনেক আগেই দখল হয়েছিল। আর এখন সড়কের অর্ধেক অংশ জুড়েই বসেছে অস্থায়ী দোকান। বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজু-শিঙাড়া, ফলমূল থেকে শুরু করে কাপড়ের নানা পসরা। ফলে সড়কটি কার্যত একমুখী হয়ে পড়েছে। পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ আর যানবাহনের জন্য এই রাস্তাটি প্রায় অচল।
জনদুর্ভোগ ও ক্ষোভের প্রতিফলন-
এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। পথচারী হাফিজুর রহমান বলেন- “শহরের ফুটপাত তো প্রায় সবই দখলে। এখন রাস্তাও দখল করা হয়েছে। এর ফলে এই রাস্তায় চলাচল করা একপ্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া সৌন্দর্যও পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।”
আরেক পথচারী গোলাম মোস্তফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- “ফুটপাত দিয়েও হাঁটা যায় না, রাস্তাও হাঁটার জন্য নিরাপদ নয়। পুলিশ কীভাবে রাস্তাটি একমুখী করল, তা বোঝা যাচ্ছে না। এই দোকানপাট পুরোপুরি সরানো প্রয়োজন।”
এদিকে রাস্তার ওপর দোকান বসানোর কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রতিনিয়ত দ্বন্দ্ব হচ্ছে। কাপড় ব্যবসায়ী মো. রফিক জানান- “প্রতিদিন এখানে তর্কাতর্কি হয়। পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটনের দিকে যেতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।”
পুলিশের ভূমিকা ও হকার পুনর্বাসন-
রাজশাহী মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে- প্রায় এক বছর আগে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট কমাতে কিছু সড়ক একমুখী করা হয়। সাহেব বাজারের এই সড়কটিও একইভাবে একমুখী করা হয়। প্রথমে রাস্তার দক্ষিণ পাশের ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের উত্তর পাশে পুনর্বাসিত করা হয়।
তবে এখন ওই জায়গায় আরও অতিরিক্ত দোকান বসে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেকে নতুন করে দোকান বসিয়েছেন। ফুটপাত কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল বলেন, “পুলিশ প্রথমে ৩৭টি দোকান বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন সেখানে ৬০-৭০টি দোকান বসেছে। এসব বন্ধ করতে হবে।”
প্রেসক্লাবের সভাপতি স ম সাজু বলেন- “পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানাব, হকারদের অন্য কোথাও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। এতে যানজট কমবে এবং মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন হবে।”
পুলিশের প্রতিশ্রুতি-
রাজশাহী পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান- “জিরো পয়েন্টের রাস্তার দক্ষিণ পাশে আগে ব্যবসা চলত, যা যানজট তৈরি করত। এ কারণে তাঁদের উত্তর পাশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যবসায়ীকে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তালিকার বাইরে কোনো দোকান থাকবে না। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তালিকার বাইরে দোকান কীভাবে বসেছে? আর পুলিশ কেনই বা এই অবস্থার অবনতিতে তৎপর ছিল না।
রাজশাহীর সাহেব বাজারের এই সড়কটি শুধু শহরের গুরুত্বপূর্ণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য নয়। এটি নগরের সৌন্দর্যের একটি প্রতীক। তবে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে শহরের যানজট এবং পথচারীদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে শহরের বাসিন্দারা একটি সুশৃঙ্খল নগর পরিবেশ ফিরে পান।

