মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ জ্বালানি তেল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
রিফাইনারি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে পরিশোধনের জন্য কোনো অপরিশোধিত তেল মজুত নেই। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রেখে কেবল যন্ত্রপাতি সচল অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সবশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি ট্যাংকারে করে দেশে অপরিশোধিত তেল আসে। এরপর থেকে নতুন কোনো চালান পৌঁছায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় তেলবাহী জাহাজ আসতে পারছে না। মার্চের শেষ দিকে রিফাইনারিতে প্রায় ২৩ হাজার টন তেল মজুত ছিল, যা ইতোমধ্যে পুরোপুরি পরিশোধন হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে উৎপাদন শূন্যে নেমে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে মোট আটটি সংরক্ষণ ট্যাংক থাকলেও এর মধ্যে দুটি রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে তেল আমদানি সম্ভব হচ্ছে না, যা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। সরকার সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘অ্যারাবিয়ান লাইট’ ও ‘মারবান’ ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন করে এই রিফাইনারি।
দেশে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টনের মধ্যে। এর বড় অংশই পরিশোধিত অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, আর একটি অংশ আসে অপরিশোধিত তেল হিসেবে, যা দেশে পরিশোধন করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

