ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এটি ‘নজিরবিহীন মাত্রার জ্বালানি সংকট’-এ রূপ নিতে পারে। জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়াচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতোমধ্যেই কমানো হয়েছে।
আইএমএফের অর্ধবার্ষিক হালনাগাদ তথ্য বলছে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে এ বছর যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি কমতে পারে। একই সঙ্গে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৮০ সালের পর পঞ্চমবারের মতো বড় মন্দার মুখে পড়তে পারে।
এই সতর্কবার্তার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস। তিনি বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত যুক্তরাজ্যের নিজস্ব যুদ্ধ নয়, তবুও এর অর্থনৈতিক চাপ দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিভস অভিযোগ করেন, স্পষ্ট লক্ষ্য এবং সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা ছাড়া যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। এতে তিনি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইএমএফ আরও জানায়, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে গেলে জ্বালানি আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংস্থাটি ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.১ শতাংশ কমিয়ে ২.৩ শতাংশে নামিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ০.৫ শতাংশ কমিয়ে ০.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের দ্বিগুণ হয়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনচাস বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
তিনি সতর্ক করেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে। প্রতিদিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি নেতিবাচক পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা কার্যত বিশ্বমন্দার সমতুল্য।

