Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 20, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বেশি দাম দিলেই কি নিশ্চিত হবে জ্বালানি সরবরাহ?
    অর্থনীতি

    বেশি দাম দিলেই কি নিশ্চিত হবে জ্বালানি সরবরাহ?

    মনিরুজ্জামানএপ্রিল 20, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকরের পর বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যয়চাপ আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উৎপাদন ও পরিবহন খাতে অতিরিক্ত খরচের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রপ্তানিমুখী শিল্পে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হবে, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পূর্বনির্ধারিত চুক্তির বাইরে গিয়ে দাম বাড়াতে রাজি নন।

    ফলে বাড়তি ব্যয়ের ভার মূলত স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরই বহন করতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে রপ্তানি খাতের মুনাফার পরিমাণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে। এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে।

    সরকার ভর্তুকির চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার যুক্তিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ১৮ এপ্রিল ২০২৬ মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়। নতুন দামে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।

    এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পূর্বের চুক্তির মূল্য পরিবর্তনে সম্মত নন। ফলে বাড়তি খরচ বহন করে রপ্তানিকারকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তিনি আরও বলেন, “এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান চাহিদা হলো দাম বৃদ্ধির পরও সময়মতো এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।”

    জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাত আরও চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্বনির্ধারিত দামের চুক্তি পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় সরাসরি মুনাফা কমে যাবে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আরো বলেন, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম সমন্বয় ছাড়া সরকারের খুব বেশি বিকল্প নেই। তবে মূল প্রশ্ন হচ্ছে জ্বালানির সরবরাহ কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ভোক্তা ও উৎপাদকরা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাবেন কি না।

    তিনি আরও যোগ করে বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আগেই নির্ধারিত দামের চুক্তি পরিবর্তনে আগ্রহী নন। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় উদ্যোক্তাদেরই বহন করতে হবে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। তার ভাষায়, “বর্তমানে আমাদের প্রধান দাবি হলো দাম বাড়লেও সময়মতো এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।”

    এদিকে জ্বালানি সংকটকে শিল্প খাতের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শোভন ইসলাম বলেন, গার্মেন্টস শিল্প মূলত জ্বালানিনির্ভর। উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৬ থেকে ৮ শতাংশই জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা গ্যাস ও তেলের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।

    তিনি জানান, আগে থেকেই গ্যাস সংকট ছিল, এখন তা আরও তীব্র হয়েছে। অনেক কারখানায় বয়লার ও উৎপাদন চালাতে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জেনারেটর ব্যবহার করায় খরচ আরও বেড়ে গেছে।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)-এর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির চেয়ে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জ্বালানির সংকট। প্রয়োজনীয় তেলই পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জেনারেটর চালানোর কথাও থাকছে, কিন্তু তেলের অভাবে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ট্যানারি শিল্পে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে শিল্প খাত এখন বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়াচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ না থাকায় পুরো চাপ উদ্যোক্তাদের ওপরই পড়ছে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। কম দামে অর্ডার নিলে লোকসান, আর বেশি দাম চাইলে অর্ডার হারানোর ঝুঁকি—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে শিল্প খাতে।

    সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হবে:

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমা ট্যানারির স্বত্বাধিকারী মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির চেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানির প্রাপ্যতা।

    তিনি  বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলই পর্যাপ্তভাবে পাচ্ছি না। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তেলের অভাবে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। এতে ট্যানারি শিল্পে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।” তিনি আরও জানান, ট্যানারি শিল্প একটি হেভি ইন্ডাস্ট্রি। এখানে একটি ব্যাচ উৎপাদনে গেলে টানা ৭২ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রক্রিয়া চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে শুধু উৎপাদনই থেমে যায় না, পণ্যের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। কাঁচামাল সংগ্রহ, কেমিক্যাল আমদানি ও রপ্তানির প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

    মো. সাখাওয়াত উল্লাহ আরও বলেন, সামনে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে টানা তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে চামড়া কেনার আগ্রহও কমে যেতে পারে, যা পুরো খাতের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।

    মূল্যস্ফীতির হার আবারও বাড়ার আশঙ্কা:

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম হ্রাস। বিবিএসের হিসাবে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা মার্চে কমে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি এই পরিস্থিতিকে আবারও বদলে দিতে পারে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু সরাসরি ভোক্তার ওপরই নয়, পুরো অর্থনীতিতে বিস্তৃতভাবে পড়বে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, “সরকার দীর্ঘদিন ভর্তুকির মাধ্যমে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি এবং আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত এড়ানোর সুযোগও ছিল না।”

    তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব ভোক্তার ওপর পড়বে। একই সঙ্গে এর একটি গুণক বা মাল্টিপ্লায়ার প্রভাবও রয়েছে, যা পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবহন ভাড়া, উৎপাদন ব্যয়, স্থানীয় শিল্প, আমদানি-নির্ভর ও রপ্তানিমুখী খাত—সবখানেই খরচ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত তার চাপ ভোক্তার ওপরই এসে পড়বে।

    অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, দেশে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চাপের মধ্যে আছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ দামে জ্বালানি আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প খুব বেশি ছিল না। এর ফলে উৎপাদন, ভোক্তা কল্যাণ, রপ্তানি ও আমদানি বিকল্প শিল্পসহ সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    তবে তিনি মনে করেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, যাতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির অযৌক্তিক প্রভাব ছড়িয়ে না পড়ে। বিশেষ করে পরিবহন ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    জ্বালানি সংকটে বাড়ছে বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের চাহিদা

    এপ্রিল 20, 2026
    অর্থনীতি

    পেট্রোবাংলার ২২ হাজার কোটি টাকার শুল্ক বকেয়া

    এপ্রিল 20, 2026
    অর্থনীতি

    করহার বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে

    এপ্রিল 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.