দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে আবারও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ৪০ কোটি ডলার বেশি, যা প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা নির্দেশ করে।
শুধু এপ্রিলই নয়, চলতি বছরের মার্চ মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিহাস গড়েছে। ওই মাসে প্রবাসী আয় পৌঁছায় প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে, যা একক মাস হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে, যেখানে আয় ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ২৯ এবং ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, যা তিন বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল বলে জানা যায়। ফলে ধারাবাহিকভাবে কয়েক মাস ধরে বৈদেশিক আয় ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বেড়েছে, যার ফলে প্রবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি বিনিময় হার পাচ্ছেন এবং দেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর। তারা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

