রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা পেট্রোবাংলার দীর্ঘদিনের বকেয়া শুল্ক-কর আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে পেট্রোবাংলার পুরোনো বকেয়া হিসেবে তিন হাজার ২৭৮ কোটি টাকা দ্রুত ছাড় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পেট্রোবাংলার মোট বকেয়া শুল্ক-করের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় এ অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সমঝোতার ভিত্তিতে গত দুই অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ঋণ নিয়ে পেট্রোবাংলা ১০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তবে এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তিন হাজার ২৭৮ কোটি টাকা, যা পরিশোধে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে এনবিআরে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় অর্থ বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বিপিসির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বকেয়া ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা (সুদ ছাড়া) ধাপে ধাপে বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৫২ মাসে পেট্রোবাংলার নতুন করে বকেয়া বেড়ে প্রায় ২২ হাজার ২৬৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে বকেয়ার চাপ আরও বেড়েছে।
পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, আমদানি করা গ্যাসের শুল্ক-কর পরিশোধে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিপুল অঙ্কের এই দায় এককভাবে বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অঙ্কের রাজস্ব বকেয়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। এই অর্থ আদায় সম্ভব হলে সরকারের বাজেট ঘাটতি কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে এনবিআর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই বকেয়া তিন হাজার ২৭৮ কোটি টাকা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

