জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে লজিস্টিকস খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কন্টেইনার পরিচালনায় নতুন করে চার্জ বাড়ানো হয়েছে, যা ব্যবসা ও ভোক্তা—দুই পক্ষের ওপরই চাপ তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ গড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই হার ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
বর্ধিত চার্জ বিভিন্ন খাতে প্রযোজ্য হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দর থেকে ডিপোতে খালি কন্টেইনার পরিবহন ব্যয়, টার্মিনাল ও ডিপোর মধ্যে হাউলেজ খরচ, কন্টেইনার ওঠানামা চার্জ, রপ্তানি পণ্য ভর্তি ও হ্যান্ডলিং খরচ, কন্টেইনারের ওজন নির্ধারণ ফি এবং আমদানি পণ্যের ডেলিভারি সংক্রান্ত ব্যয়। ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে চার্জ বৃদ্ধি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ঘন ঘন চার্জ বাড়ানো ব্যবসার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে রপ্তানি খাতে অর্ডার কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারা ইতোমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাই এই অতিরিক্ত খরচ সমন্বয় করতেই নতুন চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত অনিবার্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে। পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়লে শেষ পর্যন্ত তা ভোক্তার ওপর গিয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। ইতোমধ্যে পরিবহন খাতে ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দামেও প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
কাঁচাবাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ায় শাকসবজি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘাটতি তাদের খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রেস্টুরেন্টসহ সেবাখাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জেনারেটর চালাতে বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে, আবার ক্রেতা কমে যাওয়ায় আয়ও কমছে। ফলে ব্যবসায়ীরা দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় ও পর্যায় বিবেচনা করা জরুরি ছিল। হঠাৎ করে চার্জ বাড়ালে তার সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

