Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, এপ্রিল 21, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » তেলের দাম বৃদ্ধি—জনগণের ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের লাভ কতটুকু?
    অর্থনীতি

    তেলের দাম বৃদ্ধি—জনগণের ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের লাভ কতটুকু?

    নিউজ ডেস্কএপ্রিল 21, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ছবি: এ আই
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জ্বালানি তেলের দাম এক ধাপে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পরিবহন খাত থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন, পাইকারি বাজার এবং খুচরা ভোগ্যপণ্যের দামে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় কিছুটা কমলেও তার বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বাড়বে।

    নতুন নির্ধারিত দামে ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে প্রতি লিটারে ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং অকটেনে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা এই মূল্যবৃদ্ধিকে শুধুমাত্র জ্বালানির দামের সমন্বয় হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, এটি পুরো অর্থনীতিতে একটি “চেইন রিঅ্যাকশন” বা ধারাবাহিক প্রভাব তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব বিভিন্ন খাতে ধাপে ধাপে পড়বে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও চাপ:

    বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা দিচ্ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে ভর্তুকির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না করায় সরকারের ব্যয় ক্রমাগত বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, এক ধরনের বাধ্যবাধকতা থেকেই সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভর্তুকির চাপ—সব মিলিয়ে সরকারের সামনে বিকল্প সীমিত ছিল। তবে এই সিদ্ধান্তে সরকারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সানেম’-এর নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়লে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় কমে, এটি সত্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটি পুরো অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করে। পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর এর বোঝা পড়ে।” তিনি আরও বলেন, “এটি একটি দীর্ঘ চেইন ইফেক্ট তৈরি করে, যা নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে।”

    সরকার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছিল। এতে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাতেও প্রভাব পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আর্থিক চাপ আরও বাড়ার ঝুঁকি ছিল। ফলে নীতি সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা ব্যাখ্যা করছেন।

    ঋণ ছাড়ের শর্ত পূরণে অগ্রগতি:

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি বড় ঋণ কিস্তি বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। সংস্থাটি আগেই জানিয়েছে, কাঠামোগত সংস্কার—বিশেষ করে ভর্তুকি কমানো বা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার—বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ঋণ ছাড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

    এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তকে অর্থনীতিবিদরা সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে আইএমএফকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে সরকার ধীরে হলেও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে অগ্রসর হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত শুধু অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, “এই মুহূর্তে আইএমএফের একটি বড় ঋণ কিস্তি পেন্ডিং আছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বলছে, সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করছে না, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহারের বিষয়ে। সেই দিকেই হয়তো এখন ধাপে ধাপে অগ্রগতি শুরু হলো। অতিরিক্ত সাবসিডি দেওয়া সরকারের পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। রাজস্ব আহরণও প্রত্যাশিতভাবে হচ্ছে না। তাই জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের খুব বেশি বিকল্প ছিল না।”

    বাংলাদেশ বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে— বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, বাজেট ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা। এসব কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ শুধু অর্থের উৎস নয়, বরং এটিকে একটি “নীতিগত আস্থার সনদ” হিসেবেও দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

    তাদের মতে, আইএমএফের ঋণের কিস্তি আটকে গেলে শুধু অর্থায়ন নয়, বরং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার সহায়তাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি চালু রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, উন্নয়ন সহযোগী অন্যান্য সংস্থাও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আইএমএফের মূল্যায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

    অন্যদিকে আইএমএফ বরাবরই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। সংস্থাটির যুক্তি অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভর্তুকি বাজেট ঘাটতি বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়কে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে।

    ভর্তুকির চাপ কমানোই মূল লক্ষ্য:

    সরকার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় বিপুল ভর্তুকি বহন করে আসছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকে। এতে ভর্তুকির চাপ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    এদিকে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “সরকারি তহবিলে চাপ বাড়ায় দাম বাড়ানো হয়েছে। তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও বলেন, “তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, নাও বাড়তে পারে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”

    গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক নিয়ে সচিবালয়ে নিজ দফতরে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও জানান, জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ঋণ নেওয়া হবে না। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, আইএমএফের ঋণ কেবল অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং নীতি সংস্কার ও আন্তর্জাতিক আস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বিষয়—যার প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ে।

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামে একটি ধারাবাহিক প্রভাব তৈরি হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, যাদের দৈনন্দিন ব্যয় ইতোমধ্যেই সীমিত আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হিমশিম খাচ্ছে।

    এই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বল্পমেয়াদে অন্তত তিন মাসের জন্য একটি জরুরি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, খাদ্য সহায়তা ও নগদ সহায়তার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা না করলে দারিদ্র্যের হার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    প্রথম ধাক্কা পরিবহন খাতে:

    জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে দ্রুত এবং দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। দেশের অধিকাংশ পণ্য পরিবহন এবং গণপরিবহন ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লঞ্চের পরিচালন ব্যয় একধাক্কায় বেড়ে গেছে। পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করলে পরিবহন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এতে যাত্রী ভাড়া ও পণ্য পরিবহন খরচ—উভয়ই বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এই ভাড়া বৃদ্ধি সরাসরি এক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি ধাপে ধাপে পুরো বাজার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কৃষক থেকে শুরু করে শহরের সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত সবাই এর প্রভাব অনুভব করে।

    পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং শিল্পপণ্য—সবকিছুরই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনে জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। এর ফলে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়। একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়লে প্রথমে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, এরপর পাইকারি দাম, তারপর খুচরা দাম এভাবে একটি ধারাবাহিক চেইনে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়।”

    শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি:

    শিল্প খাতেও জ্বালানির প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা সরাসরি ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। টেক্সটাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সিরামিক, ইটভাটা এবং ক্ষুদ্র শিল্প—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট হিসেবে কাজ করে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি একটি “কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন” পরিস্থিতি, যেখানে সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক মূল্যস্তর ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।

    সরকারের কতটা ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে?

    জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সরকারের সরাসরি কোনো আয় বা মুনাফা হয় না। বরং দীর্ঘদিন ধরে বহন করা ভর্তুকির চাপ কমাতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিসংখ্যান ও বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশে বছরে ডিজেল ব্যবহারের পরিমাণ আনুমানিক ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি লিটারের মধ্যে ওঠানামা করে। প্রতি লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়ালে শুধু ডিজেল থেকেই বছরে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এছাড়া কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন মিলিয়ে মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, সরকারের বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর থাকা বড় চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই আর্থিক স্বস্তির বিপরীতে সামাজিক খরচ অনেক বেশি হতে পারে।

    জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বাজারের বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত মুনাফা গ্রহণের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এতে প্রকৃত খরচ বৃদ্ধির তুলনায় বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যবর্তী স্তরে স্বচ্ছতার অভাব থাকলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। এক অর্থনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।”

    এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। তাদের আয় অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাবে। খাদ্য, পরিবহন, শিক্ষা এবং বাসাভাড়ার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তব ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। শহরাঞ্চলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলেও কৃষিপণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দামে চাপ তৈরি হতে পারে।

    এই সিদ্ধান্তে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত হলেও সামাজিক খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। কারণ মূল্যস্ফীতি বাড়লে তা দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে। জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা, পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা জরুরি।

    সব মিলিয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় করলেও এর বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতির এই ভারসাম্যই এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    ১১ বছরে বিপিসির লাভের পরিমাণ ৫২ হাজার কোটি টাকা

    এপ্রিল 21, 2026
    অর্থনীতি

    তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কোন কোন খাতে খরচ বাড়বে

    এপ্রিল 21, 2026
    অর্থনীতি

    আগামী পাঁচ বছরে মূল্যস্ফীতি কমানোর রূপরেখা

    এপ্রিল 21, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.