দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঋণের এই পরিমাণ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নিয়মিতভাবে এই ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করছে এবং প্রতি অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই অধিবেশনে অন্য প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছিল।
ব্যাংক খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঋণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অর্থ পুনরুদ্ধারে দেশ-বিদেশে আইনি উদ্যোগ চলছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে একাধিক দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়লেও এর টেকসই ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো ঋণ পরিশোধ এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ এড়ানো সম্ভব। সব মিলিয়ে, বৈদেশিক ঋণের বর্তমান পরিমাণ দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

