বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা থেকে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত রেখেছে। এর ফলে সম্ভাব্য বিপুল পরিমাণ অর্ডার ভারতসহ অন্যান্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ব্যবসায়ীরা।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে জুলাই-আগস্ট মৌসুমের সম্ভাব্য অর্ডার প্রত্যাশিত গতিতে আসছে না। বিশেষ করে বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে শুরু করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতসহ অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। যেসব অর্ডার বাংলাদেশে আসার কথা ছিল, সেগুলোর বড় অংশ ধীরগতিতে এগোচ্ছে কিংবা আটকে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের স্থানীয় অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালালেও তাদের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ বা বড় অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে এখন অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছে।
আলোচনায় বর্তমান কর কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ব্যবসায় মুনাফা না থাকলেও ন্যূনতম এক শতাংশ কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা করসুবিধা বা করস্ল্যাব চালু করা গেলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা নিয়েও উদ্বেগ জানায় ব্যবসায়ী মহল। আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার বিস্তৃত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি তৈরি করছে।
সভায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)ও কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। সংগঠনটি কোম্পানির ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে সারচার্জ প্রত্যাহার এবং ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

