দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকট বাড়তে থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের মানে বড় ধরনের অবনতি দেখা দিয়েছে। টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহর—সব জায়গাতেই এখন মোবাইল সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় ফোনে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ব্যবহারকারীদের।
মোবাইল অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে টাওয়ারগুলো মূলত ব্যাটারির ওপর নির্ভর করে চলে। কিন্তু অধিকাংশ টাওয়ারে ব্যাটারির সক্ষমতা চার থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি নয়। এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে নেটওয়ার্ক সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। তবে দেশের সব টাওয়ারে স্থায়ী জেনারেটর নেই। অনেক ক্ষেত্রে বহনযোগ্য জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা পরিচালনার জন্য নিয়মিত জ্বালানি প্রয়োজন। বর্তমানে সেই জ্বালানি সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
দেশে প্রায় ৪৬ হাজারের বেশি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে, যা কোটি কোটি গ্রাহককে নেটওয়ার্ক সেবা দেয়। পাশাপাশি ডাটা সেন্টারগুলো পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বিভিন্ন জেলায় টাওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ব্যাটারি ও জেনারেটরের ওপর চাপ বেড়েছে এবং সেবার মান কমে যাচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন ব্যবহার করে টাওয়ার ও ডাটা সেন্টার চালু রাখতে হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যয় ও সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব নয়। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায় এবং ডাটা সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সারা দেশে কল ড্রপ, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মোবাইল অপারেটররা ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম অবকাঠামোর জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য তেল বিপণন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক শুধু যোগাযোগ নয়, অর্থনীতি, ব্যবসা ও জরুরি সেবার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এই খাতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে এর প্রভাব বহুমুখী হবে। সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন টেলিযোগাযোগ খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

