অতীত আয়ের ভিত্তিতে করহার নির্ধারণ এবং পরবর্তী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত করহার বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর করার বর্তমান পদ্ধতিকে ‘ন্যায়বিচারবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তার মতে, যেকোনো কর প্রস্তাব নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা উচিত।
গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. মজিদ বলেন, আয়কর নির্ধারণের বিদ্যমান কাঠামো মূলত আগের বছরের আয়ের ওপর নির্ভর করে। এতে করে ব্যবসায়ীদের জন্য পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আমি যদি আগে থেকেই জানতাম এ বছরের আয়ের বিপরীতে কত কর দিতে হবে, তাহলে সেই অনুযায়ী বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতাম। ব্যবসায়ীরাও তাদের সিদ্ধান্ত সে অনুযায়ী নিতে পারতেন।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা একমত হয়ে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের আরও পেশাদার ও ব্যবসাবান্ধব মনোভাব নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। ড. মজিদ আরও বলেন, কর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া লক্ষ্য নির্ধারণ বন্ধ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ব্যবসায়ী নেতারা সভায় বলেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে হয়রানি কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্রয়মূল্য গ্রহণ না করে অতিরিক্ত মূল্য ধরে কর আদায় করা হয়। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তা পুরোপুরি অনুসরণ করেন না। ফলে ব্যবসায়ীদের বেশি শুল্ক দিতে হয় অথবা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য খালাস করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, আগে যেখানে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, এখন তা কমিটির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। এই প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণের কারণে ব্যবসা পরিচালনার সময় বা ‘লিড টাইম’ বেড়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সিভি/এম

