বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সামুদ্রিক পণ্য ‘স্ক্যালোপ’ আমদানিতে শুল্ক হার বড় ধরনের কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বর্তমানে এই পণ্যে শুল্ক ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ থাকলেও তা কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশে নামানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বিডার মতে, প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামে এ ধরনের পণ্যে শুল্ক হার শূন্য শতাংশ। ফলে বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি শুল্ক বিদেশি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একাধিক নীতি প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিডা জানায়, জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান জে গ্রুপ বাংলাদেশে স্ক্যালোপ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন স্ক্যালোপ আমদানি করে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করেছে।
সংস্থাটির মতে, শুল্ক কমানো হলে মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমির নতুন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, যা কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া জাপানি সী-ফুড ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি সি-ফুড প্রসেসিং হাবে পরিণত করার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
স্ক্যালোপ কী?
স্ক্যালোপ হলো এক ধরনের সামুদ্রিক ঝিনুকজাতীয় প্রাণী, যা বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া যায়। এর ভেতরের সাদা ও পেশিবহুল অংশ খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে।
বিডা তাদের বাজেট প্রস্তাবে লিথিয়াম ব্যাটারির পাশাপাশি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সোডিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন ও সংযোজন খাতকে বিশেষ ভ্যাট সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজনের ওপর ভিত্তি করে ২ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রেয়াতি ভ্যাট নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিকাশে রাউটার, সুইচসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে করভার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেশেন্ট মনিটরসহ বেশ কিছু চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে বিডা।
রপ্তানিমুখী আংশিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এলসি ছাড়াই ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বার্ষিক উৎপাদনের ২০ শতাংশ পর্যন্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানিপণ্যে ন্যূনতম মূল্য সংযোজন হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার সুপারিশ এসেছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ে। একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ক্রেতার জন্য বারবার সহগ অনুমোদনের পরিবর্তে একবার অনুমোদিত সহগ ব্যবহার করে কাজ চালানোর বিধান সহজ করার প্রস্তাবও দিয়েছে বিডা।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও রপ্তানিনির্ভর শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

