চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে। সুদ ও আসল মিলিয়ে এই সময়ে পরিশোধের পরিমাণ সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ–এর হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে আসল বাবদ গেছে প্রায় ২২৭ কোটি ডলার এবং সুদ হিসেবে দিতে হয়েছে ১২৫ কোটি ডলার।
একই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে দেশে এসেছে প্রায় ৩৮৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ নতুন ঋণ প্রবাহ থাকলেও পুরোনো ঋণ শোধের চাপ সমানতালে বাড়ছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই ঋণ নেওয়া হলেও পরিশোধের বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও বেড়েছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ধার নেওয়া হয়েছে, যদিও আংশিক পরিশোধের পর নিট দায় কিছুটা কমেছে।
গত কয়েক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। আগের অর্থবছরে প্রথমবারের মতো মোট পরিশোধ ৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে এই অঙ্ক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
ঋণদাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে রাশিয়া। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। এছাড়া চীন, জাপান ও ভারত থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বিদেশি ঋণ অপরিহার্য হলেও এর টেকসই ব্যবস্থাপনা জরুরি। কারণ ঋণের কিস্তি ও সুদের চাপ বাড়তে থাকলে তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের এই ভারসাম্য রক্ষা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

