শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে ১৭ আসনের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ও কর সুবিধা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও কর অব্যাহতি পাওয়া যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এনবিআর জানায়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ এবং আয়কর আইন-২০২৩ এর ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ন্যূনতম ড্রাইভারসহ ১৭ আসনের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি মিলবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়া শিক্ষার্থী পরিবহন পুল পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ অন্য কোনো আমদানিকারকও নির্ধারিত শর্তে এ সুবিধা নিতে পারবে।
তবে করমুক্ত সুবিধা পেতে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। আমদানি করা বাস অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মান পূরণ করতে হবে।
বাসে ব্যবহৃত ব্যাটারির ক্ষেত্রে অন্তত সাত বছর অথবা ৩ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি থাকতে হবে। এছাড়া বাসের বডির রং হলুদ রাখতে হবে এবং সেখানে স্পষ্টভাবে ‘স্কুল বাস’, ‘কলেজ বাস’ বা ‘শিক্ষার্থী বাস’ লেখা থাকতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রতিটি বাসে সিসি ক্যামেরা বা আইপি ক্যামেরা এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, এসব বাস কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ভাড়া, লিজ বা রাইড শেয়ারিং সেবাতেও ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাসগুলোকে বিআরটিএতে স্কুল বাস, কলেজ বাস বা শিক্ষার্থী পরিবহন বাস হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমদানির পর পাঁচ বছরের মধ্যে বাস বিক্রি, হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে এনবিআরের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
অব্যাহতি সুবিধা পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ এনবিআরের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই শেষে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ড অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানাবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনের কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে কর অব্যাহতির সুবিধা বাতিল হবে। সেই ক্ষেত্রে কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা ও সুদসহ প্রযোজ্য শুল্ক-কর আদায় করা হবে।

