চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ১০৫ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে আদানি পাওয়ার। একই সঙ্গে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত তাদের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ দেশের জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করছে আদানি।
তবে গত ২২ এপ্রিল একটি ইউনিটে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত মেরামত কার্যক্রম চালিয়ে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে আবারও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে আদানি পাওয়ারের প্রথম ইউনিট যুক্ত হয় ২০২৩ সালের মার্চে। একই বছরের জুনে চালু হয় দ্বিতীয় ইউনিট। বিপিডিবির কাছে বকেয়া পাওনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদানি পাওয়ারের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ২৭ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারে। একই সময়ে কোম্পানির মোট রাজস্ব ১০ শতাংশ বেড়ে ১৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ইবিআইটিডিএ ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলারে।
পুরো অর্থবছরে কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়ে ১৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ইউনিটে উন্নীত হয়েছে।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, বিদায়ী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। শীতকাল ও অসময়ের বৃষ্টির কারণে কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। তবে মার্চে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও পুনরুদ্ধার হতে শুরু করে। ভারতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৯ বিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে।
চলতি অর্থবছরে ভারতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২৪৩ গিগাওয়াট, যা আগের বছরের ২৫০ গিগাওয়াটের তুলনায় কম। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়া এবং আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তার কারণে বিদ্যুৎ এক্সচেঞ্জে গড় বাজারদরও কমেছে। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার গড় দাম ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় শূন্য দশমিক ০৪০ ডলারে নেমে এসেছে।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি খ্যালিয়া বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কয়লাসহ দেশটির নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটলেও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মহারাষ্ট্র স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২৫ বছরের জন্য ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে আদানি পাওয়ার।
এছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান মক্সি পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য ৫৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি করেছে। এর ফলে কোম্পানির মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৯৫ শতাংশ এখন দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির আওতায় এসেছে।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, ২০৩২ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ২৩ দশমিক ৭ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রসারণ প্রকল্প এগিয়ে চলছে। মহান দ্বিতীয় পর্যায়ের ৮৬ শতাংশ, রায়পুর দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫৪ শতাংশ এবং রায়গড় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪৭ শতাংশ নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কোরবা পাওয়ার প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চালু হওয়ার পথে রয়েছে।

