জ্বালানি ভর্তুকি সর্বজনীন না করে তা নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেছেন, কৃষি, সেচ ও গণপরিবহন খাতেই ভর্তুকি কার্যকরভাবে দেওয়া উচিত, কারণ বর্তমানে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তরাও এই সুবিধা ভোগ করছে। সরকারের পক্ষে সর্বজনীন ভর্তুকি বহন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আজ শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এতে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশে তা সমন্বয় না করে অতিরিক্ত মুনাফা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী মাসিক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং এ খাতে দুর্নীতির উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে কূপ খননের মাধ্যমে দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে সিপিডি নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাজেটকে কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রণয়ন করা উচিত। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করা এবং নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। রপ্তানি আয় কমছে, শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভ শক্ত করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে, ফলে কর্মসংস্থানও সীমিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কিছু সময়ের জন্য নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো এবং ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো উচিত।
তিনি আরও প্রস্তাব দেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, সংকটকালে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, বাস্তবায়নযোগ্য ও সুষম বাজেট প্রণয়ন জরুরি, যাতে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, কর্মসংস্থান বাড়ে এবং বিনিয়োগে গতি আসে।

