বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য কাস্টমস আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের যে কোনো এলাকাকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থবিলে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করে বলেন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস ও উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আইনি ভিত্তি তৈরি করা হবে।
প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নিতে হবে না। তারা শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবে। তবে এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ করতে হলে প্রচলিত শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে।
অর্থবিলে বলা হয়েছে, রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করা যাবে। আমদানি করা পণ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ, মান যাচাই, প্যাকেজিং, নতুন পণ্য উৎপাদন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল থেকে উৎপাদিত বা সংরক্ষিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলেও (ইজেড) সরবরাহ করা যাবে।
প্রস্তাবে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কাস্টমস আইনে সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায় সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো সময় পণ্য পরীক্ষা, তদারকি কিংবা সিলগালা করার ক্ষমতা পাবে।
মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল থেকে দেশের অভ্যন্তরে কোনো পণ্য প্রবেশ করলে ওই দিনের কার্যকর শুল্ক হার ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হবে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই অঞ্চলে আমদানিকৃত পণ্য শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে এই মেয়াদ অতিরিক্ত ১২ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে অঞ্চলের সব পণ্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে।

