রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকালে গবেষণা সংস্থা সিপিডি’র বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এবারের বাজেটেও কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা নিয়ে সমালোচনা করা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই ধরনের সুযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
এ প্রসঙ্গই বিকেলে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাজেটকে কালো টাকা মুক্ত করার সুযোগ ছিল কি না, কিন্তু তা না রেখে এই বিধান কেন রাখা হয়েছে। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখানে একটি বিষয় ভুলভাবে বোঝা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত বছর একটি সীমিত বিধান রাখা হয়েছিল, যেখানে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন মূল্য কম দেখানো হলেও প্রকৃত বিক্রয়মূল্য বেশি হলে এবং তা ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রমাণ করা গেলে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে সেটি বৈধভাবে দেখানোর সুযোগ ছিল।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে একজন বিক্রেতা বেশি দামে জমি বিক্রি করলেও রেজিস্ট্রেশনে কম মূল্য দেখানো হয়। ফলে প্রকৃত অর্থের একটি অংশ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যা সমাধানে কর দিয়ে আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, একই ধরনের সুবিধা এবার ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা হয়েছে। অনেক সময় ফ্ল্যাট বা সম্পদ বেশি দামে কেনা হলেও রেজিস্ট্রেশনে কম মূল্য দেখানো হয়। এতে পরবর্তীতে কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত কর ও জরিমানার মুখে পড়তে হয়।
তিনি বলেন, এসব জটিলতা কমানোর উদ্দেশ্যেই স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের একটি সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে নির্ধারিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত হার যুক্ত করে কর পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টি বৈধ করা সম্ভব হবে। তবে যাদের অর্থ ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ বৈধভাবে কর পরিশোধিত, তাদের অতিরিক্ত কর দিতে হবে না বলেও জানান তিনি।
পরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে বলেন, জমির সরকারি নির্ধারিত মূল্য বা মৌজা রেট অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় কম থাকে। এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, একটি কমিটি কাজ করছে এবং মৌজা রেট পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে তা বাস্তব বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনার চেষ্টা চলছে। এতে ভবিষ্যতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পুরো দেশে জরিপের মাধ্যমে মৌজাভিত্তিক প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যা সময়সাপেক্ষ একটি কাজ। তবে এটি সম্পন্ন হলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।

