টাকা ছাপানো বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত কাজের অংশ। তবে অর্থনীতির মৌলিক সূত্র মেনেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই কাজটি করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ছাপানোর কৌশল এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ছাপানোর কৌশল জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রাজস্ব আদায় না হলে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরকারকে অর্থের জোগান দেয়। এটা হাই পাওয়ার মানি। যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। জনমনে প্রশ্নও জাগে। এটা ভালো দিক না।
বাংলাদেশ ব্যাংক কি চাইলেই টাকা ছাপাতে পারবে? এমন প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন, ব্যবহারের অযোগ্য, ছেঁড়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়ে নতুন নোট বাজারে ছাড়ে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আবার সরকার তার চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবহার করে এই কাজটা করে থাকে। সরকারের ইচ্ছার ওপর নতুন টাকা ছাপা না ছাপা নির্ভর করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারও টাকা ছাপিয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘ মেয়াদে মোটেই ভালো নয়। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) এই ব্যবস্থাকে ভালোভাবে দেখছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপালে মূল্যস্ফীতি বাড়ে কেন? এ ব্যাপারে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও টাকার সরবরাহ বাড়ার ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে মূল্যস্ফীতিও বাড়ে। এতে মানুষের ক্রয়-ক্ষমতা কমে যায়। অর্থনীতির গতিও কমে যায়। এটা অর্থনীতির সূত্র।
তাই নতুন টাকা বেশি করে ছাপা ভালো দিক না। অর্থনীতির নিয়ম মেনে টাকা ছাপলে, তা একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো, তেমনি এ নিয়ে কারও কোনো বক্তব্যও থাকবে না। এমনকি আইএমএফও বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার সুযোগ পাবে না। এর বিপরীতে কোনো রকম নিয়ম বা সূত্রের তোয়াক্কা না করে সরকারের অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ইচ্ছামাফিক টাকা ছাপলে সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না। সূত্র: খবরের কাগজ
সিভি/এম

