এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্লিন এনার্জি, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে নতুন অর্থায়ন সুবিধা চালু করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
আজ রোববার (৩ মে) উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সম্মেলনে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা। এডিবি জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নাম “ক্রিটিক্যাল মিনারেলস-টু-ম্যানুফ্যাকচারিং ফাইন্যান্সিং পার্টনারশিপ ফ্যাসিলিটি”। এর মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলটিকে শুধু খনি থেকে কাঁচামাল উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন এবং পুনর্ব্যবহারের মতো উচ্চমূল্যের শিল্পে রূপান্তর করা। এই কাঠামোর মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তুতি, নীতি সংস্কার এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া হবে।
এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যেন শুধু কাঁচামালের উৎস না থাকে, বরং এই খনিজ থেকে তৈরি প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং মূল্য সংযোজনের সুফলও স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়—এটাই মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ একটি দায়িত্বশীল সরবরাহ চেইন গড়ে তুলবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নত উৎপাদন খাতে প্রতিযোগিতা করতে পারে এবং নিজেদের দেশে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এডিবির এই সুবিধা দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথমটি অনুদান উইন্ডো। এতে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ যেমন সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এই অংশে জাপান সরকার ২০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য সরকার ১.৬ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দ্বিতীয়টি ক্যাটালিটিক ফাইন্যান্স উইন্ডো। এটি সহ-অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে কোরিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
এডিবি ইতোমধ্যে ভারতের ব্যাটারি উৎপাদন, মঙ্গোলিয়ার ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ, উজবেকিস্তানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ধাতু উৎপাদন এবং ফিলিপাইনের খনিজ খাতের নীতি সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। নতুন এই অর্থায়ন উদ্যোগ সংস্থাটির ২০২৫ সালের খনিজ সম্পদ কৌশল বাস্তবায়নকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এডিবি জানিয়েছে, এই সুবিধার আওতায় প্রতিটি প্রকল্প কঠোর পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালা এবং পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। সংস্থাটির মতে, এই উদ্যোগ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

