এপ্রিল মাসে দেশের অর্থনীতি আগের মাসের তুলনায় আরও দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। মূল চালিকাশক্তি ছিল কৃষি ও উৎপাদন খাতের শক্তিশালী অগ্রগতি। বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) এই চিত্রই তুলে ধরেছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে তৈরি করা এই সূচক অনুযায়ী, এপ্রিলে পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬-এ। মার্চের তুলনায় এটি ১.১ পয়েন্ট বেশি। এ তথ্য গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এপ্রিলে কৃষি খাত টানা অষ্টম মাসের মতো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এ সময় খাতটির গতি আরও বেড়েছে বলে পিএমআই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ইনপুট খরচ এবং অর্ডার ব্যাকলগ—সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতি দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে উৎপাদন খাত মার্চ মাসের সংকোচন থেকে বের হয়ে আবারও সম্প্রসারণে ফিরেছে। কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি, কাঁচামাল কেনা বেড়ে যাওয়া এবং ইনপুট মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। নতুন অর্ডার, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানও এ সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রস্তুত পণ্যের মজুদ ও আমদানিতে কিছুটা কমতি দেখা গেছে, যদিও তা আগের তুলনায় ধীর গতিতে। একই সঙ্গে সরবরাহ সময় এবং অর্ডার ব্যাকলগ আবারও সংকোচনের দিকে গেছে।
নির্মাণ খাত টানা তৃতীয় মাসের মতো সংকোচনের মধ্যে রয়েছে এবং এপ্রিলে এই পতনের গতি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা ও সামগ্রিক কার্যক্রম কমেছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানও হ্রাস পেয়েছে। যদিও ইনপুট খরচ এবং অর্ডার ব্যাকলগ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে আগের তুলনায় সেই গতি কম।
সেবা খাত টানা ১৯ মাস ধরে সম্প্রসারণের মধ্যে থাকলেও এপ্রিলে তার গতি কমে গেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট খরচ বেড়েছে। তবে নতুন ব্যবসা ও অর্ডার ব্যাকলগ সংকোচনের দিকে গেছে।
পিএমআই অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—সব খাতেই আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক আস্থার ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এপ্রিলের পিএমআই দেখাচ্ছে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লেও সব খাতের ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক শক্তিশালী রয়েছে। এতে বোঝা যায় স্বল্পমেয়াদে ব্যবসায়িক আস্থা স্থিতিশীল এবং সতর্কভাবে ইতিবাচক অবস্থায় আছে।

