বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিশেষ করে খুচরা বিক্রয়, কৃষি এবং জ্বালানি খাতে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিয়াওয়াতি এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যৌথ সহযোগিতার বাস্তব দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত লিস্টিয়াওয়াতি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ইন্দোনেশিয়া আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার কথাও তুলে ধরেন।
এই আস্থার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার বড় খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আলফামার্টের বাংলাদেশে প্রবেশ। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশে ৫০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা করেছে। দীর্ঘমেয়াদে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি আউটলেট সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে।
বৈঠকে কৃষি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খাতে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এদিকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর যৌথ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি অব্যবহৃত সম্পদকে পাবলিক–প্রাইভেট অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

