ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়, অর্থাৎ চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগের পর্যায়ে দেশের অর্থনীতি এক ধরনের গভীর নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ব্যাংক খাতে অনিয়ম, খেলাপি ঋণের চাপ, অর্থপাচার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার সঙ্গে যুক্ত হয় বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব। এসব সংকট মিলিয়ে অর্থনীতিতে তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি চাপ।
অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই সময় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ শতাংশে পৌঁছায়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের উদ্যোগে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে নেমে আসে। ব্যাংক খাত সংস্কারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি তেমন বাড়েনি।
ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আমদানি-রফতানির গতি শ্লথ থাকায় অর্থনীতির বড় ধরনের উন্নতি দেখা যায়নি। প্রবাসী আয় কিছুটা বাড়লেও অন্য সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আস্থার সংকটের কারণে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর চলতি বছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেয়। সরকারের তিন মাস পূর্ণ হলেও এই স্বল্প সময়ে তাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে অন্যতম ছিল বাজেট প্রণয়ন। এমন সময়ে বাজেট তৈরি হচ্ছে, যখন মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে, রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
এ পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। উৎপাদন ও রফতানির ধীরগতির কারণে কর্মসংস্থান কমেছে এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় বাজেট প্রণয়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার এখন সম্প্রসারণমূলক বাজেটের দিকে এগোচ্ছে।
আসন্ন বাজেটের আকার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন ও যোগাযোগ খাতেও বড় বরাদ্দ থাকবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতও অগ্রাধিকার পাবে।
তবে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের বড় অংশই বেতন-ভাতা ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়। এতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন না হলে বরাদ্দ বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। স্বাস্থ্য খাতেও অতীতে যন্ত্রপাতি কেনার পর অনেক সরঞ্জাম ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার নজির রয়েছে। হাসপাতালে ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহে অপচয়ের অভিযোগও রয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বড় বরাদ্দ যদি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তবে গত কয়েক বছর ধরে এর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফলে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বরাদ্দ নয়, বরাদ্দের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অর্থায়ন সবসময়ই একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। এবারের বাজেটে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এককভাবে সংগ্রহ করতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নীতি কাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের বিদ্যমান অবস্থায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।
এই লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে প্রণীত উচ্চাভিলাষী বাজেট অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশের মধ্যে থাকাই সাধারণত সহনীয় ধরা হয়। কিন্তু অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ঘাটতি ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে সরকারকে সংকোচনমূলক বাজেট গ্রহণ করতে হবে। বরং রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত করজাল সম্প্রসারণ। এর জন্য জনবল ও অফিস কাঠামো বাড়িয়ে মাঠপর্যায়ে নিবিড় জরিপ চালানোর মাধ্যমে নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন পেশার ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের করের আওতায় আনা জরুরি। করের আওতা বৃদ্ধি, আদায় নিশ্চিত করা এবং কর ফাঁকি রোধে কর কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও সততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এ খাতে দুর্বলতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যথাযথ আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর প্রদান করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একাংশ কর কর্মকর্তার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের অভিযোগও শোনা যায়। যদিও মূল্য সংযোজন কর অটোমেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, দুর্নীতির কারণে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষ করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় ও বিক্রয় শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এতে প্রশিক্ষিত জনবলের মাধ্যমে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও টার্নওভারের ভিত্তিতে মূল্য সংযোজন কর আদায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত কর প্রদানকারীরাও অনেক সময় অতিরিক্ত করের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী মহলে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সব অভিযোগ একরকম না হলেও একটি বড় অংশ সত্য বলেই মনে করা হয়।
এ অবস্থায় এনবিআরের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের আরও কৌশলী, পেশাদার, সৎ এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অধীনস্থদের ক্ষেত্রে কঠোর শাসন এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ—এই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া রাজস্ব ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্বে শুরু হওয়া প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্ধসমাপ্ত প্রকল্প ফেলে রাখলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় হয়, অন্যদিকে প্রকল্প শেষ হলে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাওয়া যেত তা থেকেও দেশ ও জনগণ বঞ্চিত হয়। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিতভাবে চালু থাকলে কর্মসংস্থান বাড়ে, রাজস্ব বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। তাই বাজেট প্রণয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া বাজেটের আরেকটি বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। এডিপিতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এবং তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করে সরকারি খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, নীতিসহায়তা প্রদান, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করা এবং সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট খাতে আর্থিক প্রণোদনা এবং শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক রেয়াত বা কর সুবিধা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগ বাড়লে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে এবং এর মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগ মোট জিডিপির ২২ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশে রাখতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগকে অন্তত ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খেলাপি ঋণের কারণে বহু ব্যাংকে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেক উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না। ফলে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। সরকার যদি বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করে, তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হতে পারে। এতে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তুলনামূলকভাবে উচ্চাভিলাষী হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের একটি বড় অংশই ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে এসেছে মাত্র ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে মুদ্রা সরবরাহের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে সরকার পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রায় ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির পথে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দুর্নীতি ও অপচয় কমানো, শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে কার্যকর করা গেলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে। এতে অর্থনীতি পুনরায় গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
লেখক: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া: সাবেক সিনিয়র সচিব; চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত।

